,

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, জাতিসংঘের নিন্দা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভূমি দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬-তে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (৩০ মার্চ) গাজার ইসরায়েল সীমান্তের ছয়টি স্থানে এই বিক্ষোভ হয়। ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এই বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও কমপক্ষে ১৪০০ মানুষ আহত হয়েছেন।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে জাতিসংঘ। আর নিহতদের স্মরণে শনিবার একদিনের শোক ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী মারণাস্ত্র ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে ১৬ জন নিহত এবং ১৪শ’র বেশি মানুষ আহত হন।

শোক চলছে ফিলিস্তিন জুড়ে

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় শনিবার ফিলিস্তিনজুড়ে একদিনের শোক ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একদিনে শোক ঘোষণা করেছেন। এজন্য শনিবার সারাদেশে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের অন্তত ছয়টি স্থানকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এবারের বিক্ষোভে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হামাসসহ বেশ কয়েকটি দল অংশ নিয়েছিল। বিক্ষোভ দমনে বড় ধরনের প্রস্তুতি নেয় ইসরায়েলও। গাজা সীমান্তে শতাধিক শার্প শুটার (লক্ষ্যভেদ করতে দক্ষ সেনা) মোতায়েন করে দেশটির সরকার।

বিক্ষোভের শুরুর দিন শুক্রবার সকালেই খান ইউনিস শহরে এক ফিলিস্তিনি কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। আরেক ব্যক্তি ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় আহত হয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিক্ষোভের সময় আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সংবাদমাধ্যম।

হামাস পরিচালিত আল-আকসা টিভি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় ওমর ওয়াহিদ সামুর (২৭) নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন জাবিয়া এলাকায়। নিহতের নাম মোহাম্মদ কামাল (২৫) বলে জানিয়েছে গাজার হাসপাতাল সূত্র। তৃতীয় নিহত ফিলিস্তিনির নাম আমিন মাহমুদ মুয়ামার। মান বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, রাফায় সংঘর্ষে মুয়ামার মৃত্যু হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত চতুর্থ ফিলিস্তিনির নাম মোহাম্মদ আবু ওমর।

নিন্দা ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি জাতিসংঘের

এদিকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বাচারে গুলি চালিয়ে ১৬ জনকে হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতারেস। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কুয়েত, তুরস্ক ও কাতারের সরকার।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করছে। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের স্মরণে ওই বছর থেকেই ভূমি দিবস পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা। ২০০৭ সাল থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। সেখানকার ৭০ শতাংশ মানুষই ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়ে সেখানে এসে বাস করছেন। এবছর ওই দিনটি স্মরণে বিশাল বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। দ্য গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ নামে এই বিক্ষোভটি প্রতি বছর আয়োজিত হলেও এবার এতে ভিন্নতা রয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস আন্দোলনসহ ফিলিস্তিনিদের বেশ কয়েকটি উপদল এ প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছে।

Share Button


     এ বিভাগের আরো খবর পড়ুন

বিজ্ঞাপন দিন