,

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির পক্ষ থেকে ইরানকে সংযত থাকার পরামর্শ

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির পক্ষ থেকে ইরানকে সংযত থাকার পরামর্শ

জনমত ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ও জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। ফাইল ছবি রয়টার্স।
পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি এই পরামর্শ দেওয়া হয়। ইরান চুক্তি মেনে চললে তাঁরা ইরানের পাশে থাকবেন বলে জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ ওই বিবৃতিতে চুক্তিতে উল্লেখ থাকা শর্তগুলো পালন অব্যাহত থাকার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণার পর ইরানকে সংযত থাকতে উৎসাহী করব আমরা। ইরান অবশ্যই চুক্তিতে উল্লেখিত শর্তগুলো মেনে চলা অব্যাহত রাখবে। নিয়ম মেনে সময় মতো সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’ বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।
এদিকে ইরান শর্ত মেনে চললে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকেও সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলে ইইউয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেদেরিকা মগেরিনি এক বিবৃতিতে বলেন। ইরান চুক্তিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সফলতাগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাউকে এই চুক্তি ভাঙতে দেবেন না। এযাবৎকালের কূটনৈতিক সফলতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।’
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের ডিপ্লোমেটিক কক্ষে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে করা চুক্তিটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ক্ষয়ে যাওয়া, পচা’ বলে মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে করা এই পরমাণু চুক্তির কারণে মার্কিন নাগরিক হিসেবে আমি লজ্জিত।’
এর পরই এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিরোধিতা করেছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। আর ইসরায়েল ও সৌদি আরব ট্রাম্পের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।
এর আগে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির করা পরমাণু চুক্তি থেকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যেতে পারে বলে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে চুক্তি। ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার করা এই চুক্তি বাতিল করবেন।

 

Share Button


     এ বিভাগের আরো খবর পড়ুন

বিজ্ঞাপন দিন