,

ফিরে এলো সেই মহররম মাহিনা

আহসান ফরায়েজী ।। ফেআশুরা শব্দটি শুনা মাত্রই আমাদের গা শিউরে ওঠে। মনের ভেতর হু হু করে বয়ে যায় কান্নাভেজা বাতাস। চোখের কোণে জমা হতে থাকে বেদনার নীল অশ্রু। মানসপটে ভেসে ওঠে কারবালার প্রান্তে ঘটে যাওয়া ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি। লিখেছেন- তরীকুর রহমানআশুরা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আশারা থেকে। যার অর্থ দশম বা দশমী। আশাহারুল হারাম অভিধায় অভিহিত মহররম মাসের দশ তারিখ বলেই আশুরাকে আশুরা নামে অভিহিত করা হয়। (নিসানুল আরব)ইতিহাসের ঘটনা পরিক্রমায় ৬০ হিজরি ১০ মহররম ঘটে যাওয়া কারবালার প্রান্তে নবী দৌহিত্র হুসাইন (রা.) ও তার পরিবারবর্গের শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আশুরার চূড়ান্ত বা সর্বশেষ সংযোজন। যা আশুরার পরিচয়ে যোগ করে নতুন মাত্রা। কুফাবাসীর আমন্ত্রণে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়াতে সপরিবারে কুফায় ছুটে গিয়ে ছিলেন নবী দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)। কুফাবাসীর বিশ্বাসঘাতকতা আর পাপীষ্ঠ ইয়াজিদও জিয়াদের হিংস্রতায় সেদিন নীল ফুরাত লাল হয়েছিল আহ্লে বায়েতের রক্তে। ইসলামী ইতিহাসের পাতায় সংযোজিত হয়েছে নবী বংশের ইমাম হত্যার কালো এক অধ্যায়।আশুরা দিনটি সত্যিকার অর্থেই উম্মতে মুহাম্মাদী এবং আহলে বায়েত প্রেমিকদের জন্য একটি কষ্টের দিন। শোকের দিন। যে ঘটনা স্মরণ গোটা মুসলিম উম্মাকে করে শোক বিহ্বল বিস্ময় বিমূঢ়। পাষাণ হৃদয়কে করে বেদনাহত রক্তাক্ত। কিন্তু এই দিনকে কেন্দ্র করে ‘হায় হুসাইন, হায় হুসাইন’ মাতম করা। শোকে বিহ্বল হয়ে গাল চাপড়ানোর চেয়ে জরুরি হোসাইনি সত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।ইমাম পরিবার ক্ষুুধার্ত পিপাসার্ত ছিলেন ফুরাত তীরে দিনের পর দিন। তীর ধনুক তরবারির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেছেন হাসিমুখে, তারপরও নবী দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) মাথা নত করেননি অসত্য ও অসুন্দরের কাছে। শেষ রক্ত বিন্দু অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত লড়াই করেছেন বাতিলের বিরুদ্ধে। নিজের জীবন কোরবানির মাধ্যমে আঁকড়ে রেখেছেন সত্য সুন্দরের তৌহিদী পতাকা। সুতরাং আমাদের উচিত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আদর্শকে লালন করা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই আদর্শের প্রতিফলন ঘটান। শত প্রতিকূলতার মাঝেও সত্য সুন্দরের পথে কোরআনি জীবনে অবিচল থাকা। বাতিলের কাছে মাথানত না করাই আশুরা ও নবীর শিক্ষা। তাই তো কবি নজরুল বলেন-ফিরে এল আজ সেই মহররম মাহিনা। ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা।

Share Button


     এ বিভাগের আরো খবর পড়ুন

বিজ্ঞাপন দিন