,

মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

জনমত ডেস্ক ।। বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের স্বাস্থ্য মারাত্মক খারাপ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার এক আইনজীবী। অস্ট্রেলিয়ার আইজনজীবী ও উইকিলিকসের উপদেষ্টা গ্রেগ বার্নস বলেছেন, লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে মুক্ত না হলে তার স্বাস্থ্যের এমন অবনতি পারে যেখানে তার মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম আইটিওয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী দলের সদস্য বার্নস এই মন্তব্য করেন। বিগত ছয় বছর ধরে চিকিৎসার সুযোগ বঞ্চিত অ্যাসাঞ্জের স্বাস্থ্যের খবর জানতে ওই আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আইটিওয়ার।

গত ছয় বছর ধরে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে বসবাস করছেন অ্যাসাঞ্জ। যুক্তরাজ্য সরকার তাকে গ্রেফতার করা ছাড়া ওই দূতাবাস ভবন ত্যাগ করতে বাধা দিয়ে আসছে। এমনকি চিকিৎসকের কাছে গেলেও গ্রেফতার করা হতে পারে তাকে। এমন আশঙ্কায় দূতাবাস ছাড়তে পারছেন না গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর দেশের সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেওয়া অ্যাসাঞ্জ।

গ্রেগ বার্নস বলেন, প্রকাশ্যে উদার গণতন্ত্রের কথা বলা একটা সরকারের এটা নিষ্ঠুর ও অমানবিক অবস্থান।

গত জুনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুরক্ষার অবসান ঘটাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে এখনও সেরকম কিছু ঘটেনি।

চলতি বছরের মার্চে স্বাধীনতার দাবিতে কাতালোনিয়াবাসীর বিক্ষোভে স্পেন সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর অ্যাসাঞ্জের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ইকুয়েডর। তারপর থেকেই ইন্টারনেট বিহীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও ইকুয়েডরের নাগরিকত্বের অধিকারী অ্যাসাঞ্জ ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে অবস্থান করছেন।

গ্রেগ বার্নস বলেন, ‘উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো অ্যাসাঞ্জকে সবসময় মানসিকভাবে এতবেশি সতর্ক থাকতে হয় যাতে করে ছয় বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস বঞ্চিত থাকার অলঙ্ঘনীয় প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রম সচল থাকতে পারে’।

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় যদি কোনও সমাধান না হয়-অন্য কথায় যুক্তরাজ্য সরকার যদি তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে না দেওয়ার নিশ্চয়তা না দেয়-তাহলে বাস্তবতা হলো অ্যাসাঞ্জের স্বাস্থ্য এমন পর্যায়ের খারাপ হয়ে পড়তে পারে যাতে তার জীবন মারাত্মক বিপদের মুখে পড়বে’।

২০১০ সালের আগস্টে সুইডেনে নির্ধারিত একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়েই অ্যাসাঞ্জের সমস্যার শুরু। ওই সফরের সময়ে তার সঙ্গে দেখা করা দুই নারী তার বিরুদ্ধে পরে ধর্ষণ ও নিপীড়নের অভিযোগ আনেন। ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন অ্যাসাঞ্জ। এমনকি প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ। তখনকার মতো সুইডেন ছাড়তে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু পরে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

২০১০ সালের ২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাকে গ্রেফতার করতে রেড নোটিশ জারি করে। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারের এক বিচারকের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে ডিসেম্বর মাসে তাকে দুই লাখ ৪০ হাজার ইউরো জমা ও নিশ্চয়তার শর্তে তাকে জামিন দেয় আদালত। ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে সুইডিশ আইনজীবীরা তাকে সুইডেনে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়।

ওই সময়ে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী দলের অন্যতম সদস্য ও খ্যাতনামা অস্ট্রেলিয়ার আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন সুইডিশ আইনজীবীদের আবেদনের জবাবে বলেছিলেন, যদি তাদের আবেদনে সম্মতি দেওয়া হয় তাহলে তাকে এখান থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

২০১২ সালের ১৯ জুন জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে ঢুকে পড়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানান। ব্রিটিশ পুলিশ দূতাবাস ভবন ঘিরে রেখে তার বাইরে বের হওয়ার যাবতীয় সুযোগ বন্ধ করে রাখে। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় ব্রিটেনের আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ২০১২ সালের আগস্টে অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। তখন থেকেই দূতাবাস ভবনের চার দেওয়ালের ভেতরে বন্দি জীবন কাটছে তার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল করিয়া অ্যাসাঞ্জকে দেশটির নাগরিকত্ব দেন।

Share Button


     এ বিভাগের আরো খবর পড়ুন

বিজ্ঞাপন দিন