,

সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে কিম-ট্রাম্প

জনমত  ডেস্ক ॥ সবার দৃষ্টি থাকবে আজ সিঙ্গাপুরের দিকে। কারণ সেখানে ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হবে এই বৈঠক। এ দুই নেতার বৈঠক ঘিরে সিঙ্গাপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্প-উন বৈঠকের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং ‘নতুন সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। বৈঠকের সফলতা নিয়ে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। এদিকে ট্রাম্প-উনের বৈঠকের সফলতা প্রত্যাশা কামনা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। রবিবার তাঁর দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সফলতার জন্য প্রার্থনা করেছি। -খবর বিবিসি, সিএনএন ও এএফপির।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ ১২ জুন সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। বারবার বাতিল হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকলেও সর্বশেষ ২৬ মে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন বৈঠকের ব্যাপারে জানিয়েছিলেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে ১২ জুন বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হচ্ছে এই বৈঠক। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন। রবিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান সিঙ্গাপুরের পায়া লেবার বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটিতে পৌঁছান কিম জং-উন। কিমের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং-চোল ও বোন কিম ইয়ো-জং। সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত অরচার্ড রোডে দুটি পৃথক বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করছেন ট্রাম্প ও কিম। এর মধ্যেই রয়েছে বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট, অফিস ও শপিংমল।

বৈঠকের একদিন আগে ১১ জুন (সোমবার) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক শুরু হতে পারে দেশটির। এদিকে ট্রাম্পও নিজেও বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী। উত্তর কোরীয় সংবাদমাধ্যম রোদোং সিনমুনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, কিম সিঙ্গাপুরে গেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ‘নতুন সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠা এবং ‘নতুন সময়ের দাবি’ মেটাতে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, কোরীয় উপদ্বীপে একটি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণসহ সাধারণ সমস্যাগুলো সমাধান করার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, পূর্বে আমাদের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকলেও আমাদের অবস্থান হচ্ছে তারা যদি আমাদের শাসন ব্যবস্থাকে সম্মান করে, তবে সবকিছু ঠিকঠাক রাখব আমরা। ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়া শত্রু রাষ্ট্র। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার জের ধরে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হতে থাকে।

মঙ্গলবার বৈঠককে সামনে রেখে দুই ঘণ্টা আলোচনা করেছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সোমবার সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেন লুংয়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের সময় তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীকাল দুর্দান্ত একটি বৈঠক করতে যাচ্ছি। আমার মনে হয় এটা সফল হবে।’ সে সময় তিনি লিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনার আতিথেয়তা, পেশাদারত্ব ও সৌজন্যে আমরা মুগ্ধ।’

সোমবার এক টুইটবার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ‘বাতাসে ত্তেজনা’ অনুভব করছেন। তিনি আশা করেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের ব্যাপারে কিম জং উনকে বোঝানো সম্ভব হবে।

তবে কিম জংয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কড়া নিরাপত্তায় সেন্ট রেজিস হোটেলে অবস্থান করছেন তিনি। কোন কথা বলেননি তার সঙ্গে আসা বোন কিম ইউ জংও।

দুই দেশের কর্মকর্তারাই পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আলোচনার আভাস দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইটবার্তায় বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে সম্পূর্ণরূপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। তবে একপক্ষীয় নিরস্ত্রীকরণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরীয় কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বলতে তারা বুঝিয়েছেন কোরীয় উপদ্বীপ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে রক্ষা করতে নিজেদের ‘পারমাণবিক বলয়’ সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে কিছু নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই তারা পারমাণবিক পরীক্ষা ত্যাগ করবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাদের বিশ্বাস, কিমের সাম্প্রতিক আচরণ মূলত তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করারই প্রয়াস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একইসঙ্গে অনেক আশা ও সন্দেহ নিয়েই এই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে কোন কিছুর জন্যই প্রস্তুত।’ ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ও কিম একটি একক বৈঠকও করবেন। এরপর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আরও এক ঘণ্টা বৈঠক করবেন তারা।

আলোচনায় থাকছে চিরস্থায়ী শান্তি পদ্ধতি ॥ সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপে চিরস্থায়ী শান্তি স্থাপনের পদ্ধতি, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবেন দুই নেতা। এরই মধ্যে কিম সিঙ্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেছেন। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীকে উন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক সারা পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করছে এবং আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ। আমরা ঐতিহাসিক বৈঠকের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

ট্রাম্প-উন সম্মেলনের সফলতা প্রত্যাশা পোপের ॥ পোপ ফ্রান্সিস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে আজ অনুষ্ঠিতব্য শীর্ষ বৈঠকের সফলতা কামনা করেছেন। রবিবারে দেয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, সম্মেলনের সফলতার জন্য তিনি প্রার্থনা করেছেন। কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য শুভ কামনা ও প্রার্থনা করার কথা জানিয়ে পোপ তার দেয়া রবিবারের বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমি আশা করি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা অনুষ্ঠান শুভ পরিণতির দিকেই যাবে। কোরীয় উপদ্বীপ ও পুরো বিশ্বের জন্য শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।’

দুই দক্ষিণ কোরীয় সাংবাদিক বিতাড়িত ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের আসন্ন বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে গ্রেফতার হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়াত্ত সংবাদমাধ্যমের দুই কর্মীকে সিঙ্গাপুর থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার দুই ব্যক্তির ‘ভিজিট পাস’ বাতিল করে গত ৯ জুন ২০১৮ তাদের রিপাবলিক অব কোরিয়া ফেরত পাঠানো হয়েছে ।

Share Button


     এ বিভাগের আরো খবর পড়ুন

বিজ্ঞাপন দিন