,

‘৯৯৯ জরুরি সেবা’য় উদ্ধার হলেন লন্ডন প্রবাসী আবুল কালাম

জনমত প্রতিবেদক ।। শিল্পপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম লন্ডনের স্থায়ী বাসিন্দা । সেখানে বহুবিদ স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া সত্ত্বেওে তিনি দেশমাতেৃকার টানে প্রায়শ ছুটে আসেন বাংলাদেশে। সাহায্য সহযোগিতা করেন অভাবগ্রস্তদের। শুধু তাই নয়, নিজের কষ্টর্জিত টাকা বিনিয়োগ করে তিনি দেশে গড়ে তোলেছেন ছোট-বড় কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান, যেগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের । দেশের প্রতি ভালবসার প্রত্যক্ষ প্রকাশ হিসেবে তিনি সবসময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেই গমনাগমন করেন এবং অতি বিশ্বস্থ ও নিরাপদ মনে করে বিমান অনুমোদিত হোটেলগুলোতেই রাত্রিযাপন করেন। মাসে দু’তিনবার তাকে বাংলাদেশে আসতে হয়।
এবারের ঈদে সপরিবারে এসে গত ৩০ আগস্ট প্রত্যাগমনের সময় বিমান অনুমোদিত হোটেল উত্তরার ৬ নং সেক্টরের (রোড ১৩/বি) সিটি হোমস এ উঠেন। সকাল ৬:১৫ ঘটিকায় ফ্লাইট হ্ওয়ার কারণে তিনি সবকিছু গুছগাছ করার জন্য লিফটে ঊঠে রিসিপশনের দিকে অগ্রসর হন। ’জি’ চেপে গ্রাউন্ড ফ্লোরে উপনীত হয়ে তিনি দেখলেন লিফটের দরজা স্বাভাবিকভাবে খুলছে না। তখনই এলার্ম চাপলেন জরুরি সাহায্যের জন্য। কিন্তু কোনো সাড়া পেলেন না ; ৩৫ মিনিট অতিবাহিত হয়ার পরও কেউ আসলো না তাকে সাহায্য করার জন্য। এদিকে পরিবারের লোকজন তাকে আশপাশে না পেয়ে খুঁজতে বের হলেন । তার আর্ত চিৎকার শুনে বড় মেয়ে ছুটে এল লিফটের পাশে। আটকাপড়া পিতাকে উদ্ধারের জন্য ছুটে গেল রিসিপশনে। সে হতবাক হয়ে দেখল, কর্তব্যরত সবাই বাতি নিভিয়ে ঘুমাচ্ছে। ভীত হয়ে সে বাবাকে বাঁচানোর জন্য হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করতে শুরু করলে একজনের ঘুম ভাঙলো। সে আরো দু’একজনকে নিয়ে একটি স্ক্র ড্রাইভার দিয়ে লিফটের দরজা খোলার চেষ্টা করতে লাগলো। আটকেপড়া কালাম সাহেব ক্রমশ দুর্বল হতে থাকেন; তার কাছে এটা স্পস্ট হয় যে এরা হাতুড়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এদের কেউই টেকনেশিয়ান নয়। তাই প্রাণ বাঁচাতে তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ”তোমরা অন্য কোনো ব্যবস্থা নাও, আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, ফায়ার ব্রিগেড ডাকো।” কিন্তু কে শোনে কার আকুতি! এসব অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত হোটেল কর্তৃপক্ষ যখন কোনোরূপ পদক্ষেপই নিচ্ছিল না তখন তার স্ত্রী নিজেই ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। ১৫ মিনিটের মধ্যে ফায়ার ব্রিগেডের লোকজন এসে লিফটের দরজা কেটে তাকে উদ্ধার করলো।

 

৯৯৯ পরিসেবাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন
বাংলাদেশ সরকারের এই জরুরি সেবার ভূয়সী প্রশংসা করে জনাব আবুল কালাম বলেন, “সরকারের এই ডিজিটাল পরিসেবায় দেশের মানুষ আশাতীতভাবে উপকৃত হবে।” তিনি তাকে উদ্ধার করতে আসা ফায়ার ব্রিগেড সদস্য বুদ্ধ দেব, শফিকুল ইসলাম প্রমুখকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

হোটেল কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি
আবুল কালাম সাহেব প্রথমেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভিযুক্ত করেন এ ধরনের অনুন্নত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়ার জন্য। আর হোটেল কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন, যাতে পরবর্তীতে আর কেউ এহেন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় না পড়ে।

Share Button


     এ বিভাগের আরো খবর পড়ুন

বিজ্ঞাপন দিন